ফিউজ এবং ফিউজের ধরণ
আমরা সকলেই হয়তো "ফিউজ" শব্দটির সাথে পরিচিত! অনেকেই হয়তো বন্ধুদের সাথে মজা করার জন্যও শব্দটি ব্যবহার করে থাকি! কিন্তু আজ আমরা দেখবো প্রকৃতপক্ষে "ফিউজ" জিনিসটা কি? এটা কত ধরণের? এবং কোন ধরণের ফিউজ আসলে কোন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
ফিউজ একটি Electronic Device যা মূলত Electric যন্ত্রাংশকে Overload এবং Over current এ নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে!
আরো সহজভাবে যদি বলা হয় তাহলে আমরা বলতে পারি, এটি এমন একটি ডিভাইস যা একটি সার্কিটে একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করে এবং এর অতিরিক্ত হলে নিজে পুড়ে গিয়ে অন্যান্য যন্ত্রাংশকে ঐ অতিরিক্ত মাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে! এটি মূলতই একটি সেফটি ডিভাইস!
✔ একটি ছোট্ট ইতিহাস (A Small Histor) : -
যোগাযোগ ব্যবস্থায় টেলিগ্রাফের আবিষ্কার এর পর থেকেই মূলত ফিউজ আবিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তখন একটি বড় সমস্যা ছিলো বজ্রপাত! আর যার ফলে প্রায়সই টেলিগ্রাম লাইন এবং ডিভাইসগুলো বিপর্যস্ত হত! আর তখনই এ থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে গবেষণা শুরু হয়! এর সমাধান প্রকল্পে Breguet নামক ব্যক্তি ১৮৪৬ সালে চিকন তারের ব্যবহার প্রচলন করেন যা মূলতই বজ্রপাতের হাত থেকে সিষ্টেমকে রক্ষা করার উদ্দেশ্য ব্যবহৃত হত! কিন্তু পরবর্তিতে তা বাড়িঘর এবং বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে! পরবর্তীতে টমাস আলভা এডিসন ইলেকট্রিক ডিভাইসে ব্যবহৃত ফিউজের একটি প্যাটার্ন তৈরি করেন! আর সেটাই মডিফাই হতে হতে আজ তার নানার রকম, ধরণ, রেটিং ইত্যাদি! সেগুলো নিয়েই আজকের এই আর্টিকেলটি সাজানো!
আপনাদের যদি ভাল লেগে থাকে তবে অবশ্যই ব্লগটি সাবস্ক্রাইব করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন! চলুন তাহলে যাওয়া যাক পরবর্তী ধাপে!
আমরা ফিউজ সম্পর্কে জেনেছি। ফিউজ আবিষ্কারের ইতিহাস সম্পর্কেও কিছুটা জেনেছি। কিন্তু ফিউজটা কিভাবে গঠিত তা জানাটা প্রয়োজন। সাধারণ ভাবে বা সোজা বাংলায় বলতে গেলে ফিউজ একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের তার বিশেষ যাকে একটি অদাহ্য হাউজিং বা কেস এর ভিতরে রাখা হয়। অদাহ্য পদার্থের তৈরি কেস বা হাউজিং এর মধ্যে রাখার কারণ হল যখন উক্ত চিকন তার বা ফিউজটি ওভারলোডে জ্বলে যাবে তখন যেন সৃষ্ট অগ্নি স্ফুলিঙ্গ বাহিরে ছড়িয়ে পড়তে না পারে এবং কোথাও যেন সেই কারণে অাগুন লেগে না যায়। আর এজন্য ফিউজের কেস বা হাউজিং হিসেবে সিরামিক, কাঁচ, পোরসলিন এ ধরণের অদাহ্য পদার্থকেই ব্যবহার করা হয়। আশাকরি এ বিষয়টি সবাই মোটামুটি বুঝতে পেরেছেন। তাহলে চলুন এবার আমরা আলোচনা করবো কিছু ফিউজের প্রকারভেদে সম্পর্কে। মূলত বহু প্রকারের ফিউজ রয়েছে, ব্যবহারের স্থান, লোডের অবস্থা, রেটিং এরকমই নানান বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ফিউজকে বহু আকার, আকৃতি দেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে নানান রকম নাম। যাইহোক এত প্রকার ফিউজের দীর্ঘ বর্ণনা প্রদান সম্ভব না হলেও আমি আপনাদেরকে সেইসব ফিউজের সাথে ভালভাবে পরিচয় করিয়ে দিবো যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত ব্যবহার হচ্ছে! চলুন তবে দেখা যাক।
এই ধরণের ফিউজ দেখতে কিছুটা বন্দুকের গুলির মত। তাই এর নাম রাখা হয়েছে কার্ডিজ ফিউজ। এটা দেখতে মূলত সিলিন্ডারের ন্যায় যার দুই প্রান্তে মেটাল কন্ডাকটর থাকে এবং মাঝখানে ফিউজ এলিমেন্ট টি একটি নন কন্ডাকটর পদার্থ দ্বারা আবৃত থাকে। এগুলো আবার বিভিন্ন আকৃতির এবং রেটিং এর হয়ে থাকে। আকৃতির ভিন্নতার একটি কারণ হল কেউ যাতে ভূল করে এক জায়গার ফিউজ অন্য জায়গায় ব্যবহার করতে না পারে। আর এ ধরণের ফিউজ একবার মাত্র ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ ফিউজ এলিমেন্ট টি যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে তা ফেলে দিয়ে নতুন ফিউজ লাগাতে হবে। এ ধরণের ফিউজ সাধারণত অল্প ভোল্ট ও রেটিং এ ব্যবহৃত হয়। আপনারা হয়তো বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে এ ধরণের ফিউজ দেখে থাকবেন।
✔ এক্সপালশন ফিউজ ( Expultion Fuse): -
আপনাদের যদি ভাল লেগে থাকে তবে অবশ্যই ব্লগটি সাবস্ক্রাইব করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন! চলুন তাহলে যাওয়া যাক পরবর্তী ধাপে!
✔ গঠন (Construction) : -
আমরা ফিউজ সম্পর্কে জেনেছি। ফিউজ আবিষ্কারের ইতিহাস সম্পর্কেও কিছুটা জেনেছি। কিন্তু ফিউজটা কিভাবে গঠিত তা জানাটা প্রয়োজন। সাধারণ ভাবে বা সোজা বাংলায় বলতে গেলে ফিউজ একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের তার বিশেষ যাকে একটি অদাহ্য হাউজিং বা কেস এর ভিতরে রাখা হয়। অদাহ্য পদার্থের তৈরি কেস বা হাউজিং এর মধ্যে রাখার কারণ হল যখন উক্ত চিকন তার বা ফিউজটি ওভারলোডে জ্বলে যাবে তখন যেন সৃষ্ট অগ্নি স্ফুলিঙ্গ বাহিরে ছড়িয়ে পড়তে না পারে এবং কোথাও যেন সেই কারণে অাগুন লেগে না যায়। আর এজন্য ফিউজের কেস বা হাউজিং হিসেবে সিরামিক, কাঁচ, পোরসলিন এ ধরণের অদাহ্য পদার্থকেই ব্যবহার করা হয়। আশাকরি এ বিষয়টি সবাই মোটামুটি বুঝতে পেরেছেন। তাহলে চলুন এবার আমরা আলোচনা করবো কিছু ফিউজের প্রকারভেদে সম্পর্কে। মূলত বহু প্রকারের ফিউজ রয়েছে, ব্যবহারের স্থান, লোডের অবস্থা, রেটিং এরকমই নানান বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ফিউজকে বহু আকার, আকৃতি দেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে নানান রকম নাম। যাইহোক এত প্রকার ফিউজের দীর্ঘ বর্ণনা প্রদান সম্ভব না হলেও আমি আপনাদেরকে সেইসব ফিউজের সাথে ভালভাবে পরিচয় করিয়ে দিবো যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত ব্যবহার হচ্ছে! চলুন তবে দেখা যাক। ✔ কার্ডিজ ফিউজ ( Cartidge Fuse): -
এই ধরণের ফিউজ দেখতে কিছুটা বন্দুকের গুলির মত। তাই এর নাম রাখা হয়েছে কার্ডিজ ফিউজ। এটা দেখতে মূলত সিলিন্ডারের ন্যায় যার দুই প্রান্তে মেটাল কন্ডাকটর থাকে এবং মাঝখানে ফিউজ এলিমেন্ট টি একটি নন কন্ডাকটর পদার্থ দ্বারা আবৃত থাকে। এগুলো আবার বিভিন্ন আকৃতির এবং রেটিং এর হয়ে থাকে। আকৃতির ভিন্নতার একটি কারণ হল কেউ যাতে ভূল করে এক জায়গার ফিউজ অন্য জায়গায় ব্যবহার করতে না পারে। আর এ ধরণের ফিউজ একবার মাত্র ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ ফিউজ এলিমেন্ট টি যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে তা ফেলে দিয়ে নতুন ফিউজ লাগাতে হবে। এ ধরণের ফিউজ সাধারণত অল্প ভোল্ট ও রেটিং এ ব্যবহৃত হয়। আপনারা হয়তো বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে এ ধরণের ফিউজ দেখে থাকবেন।
✔ ব্লেড আকৃতির ফিউজ ( Blade Type Fuse): -
ও ধরণের ফিউজ সাধারণত লো ভোল্টেজ সিষ্টেমে ব্যবহৃত হয়। এর গঠনশৈলীতে ব্লেডের মত দুইটি পা বিদ্যমান। এ ধরণের ফিউজ আবার লাগাতে বা খুলতে হলে কিছু স্পেশাল টুলস এর প্রয়োজন হয়।
✔ নবায়নযোগ্য ফিউজ (Renewable Fuse): -
এই ধরণের ফিউজে ফিউজটি পুড়ে গেলেও সহজেই ফিউজ এলিমেন্ট গুলোকে পরিবর্তন এবং প্রতিস্থাপন করে পুনঃরায় ব্যবহার করা যায়। এতে সুবিধা হল বার বার নতুন ফিউজ কেনার জন্য অর্থ নষ্ট হয় না। ঝামেলাও কম।
✔ সার্ফেস মাউন্ট ফিউজ ( Surface Mount Fuse): -
আপনারা যারা টুকটাক ইলেকট্রনিক্স সার্কিট নিয়ে কাজ করে থাকেন তারা হয়তো SMD (Serface Mount Devic) নামটির সাথে অবগত! অর্থাৎ এই ধরণের ডিভাইসের সার্কিটের সাথে আটকে থাকার জন্য কোন লেগ, লক কিংবা অন্য কোন ব্যবস্থা নেই। শুধুমাত্র দুইটি টার্মিনাল প্রান্ত আছে। এগুলোকে সার্কিটের সাথে আটকানোর জন্য সোল্ডারিং এর প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ এ ধরণের ফিউজ এবং ডিভাইস সরাসরি সার্ফেস এর সাথে ঝালাই করে আটকানো হয়। তাই এর নামও রাখা হয়েছে সার্ফেস মাউন্ট ডিভাইস বা ফিউজ।
✔ এক্সপালশন ফিউজ ( Expultion Fuse): -
এ ধরণের ফিউজ মূলতই হাই ভোল্টেজ লাইনে ব্যবহার করা হয়। আপনারা হয়তো ইলেকট্রিক পোল গুলোতে এমন ফিউজ লক্ষ্য করে থাকবেন। এই ধরণের ফিউজ একটি এক প্রান্ত খোলা ফাইবার গ্লাসের ভিতরে স্থাপন করা থাকে। এ ধরণের ফিউজ এলিমেন্ট খুব সহজেই রিপ্লেস করা যায়।
✔ সেমি-ইনক্লোজড ফিউজ ( Semi-Enclosed Fuse): -
এটা এমন এক ধরণের ফিউজ যার ফিউজ এলিমেন্ট কোন প্রটেকটিভ হাউজিং এর মধ্যে আবদ্ধ থাকে না। বরং এখানে ফিউজ এলিমেন্ট টি একটি ক্যারিয়ার এর সাথে আটকানো থাকে। খুব একটা বেশি এ্যাম্পিয়ার না থাকায় এ ধরণের ফিউজের প্রটেকটিভ ব্যবস্থা কম। তবে এ ধরণের ফিউজ এলিমেন্ট খুব সহজেই পরিবর্তন করে বার বার ব্যবহার করা যায়। আর মজার ব্যাপার হল বাসা বাড়িতে এই ফিউজ দেখেননি এমন লোক বোধহয় নেই।
যাইহোক এখানে আপনাদেরকে ফিউজ ও তার কয়েকটি প্রকার সম্পর্কে মোটামুটি একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে বলা বাহুল্য যে, এগুলো বাদেও বহু ধরণের ফিউজ আছে যেগুলো ধরন, আকার, গঠন এবং ব্যবহার ক্ষেত্রগুলোও ভিন্ন।
ভাল লেগে থাকলে এবং অন্তত কিছু যদি শিখে থাকেন এখান থেকে তাহলে অবশ্যই ব্লগটি সাবস্ক্রাইব করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পোষ্টগুলো বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন। আর এ বিষয়ে কোন মতামত থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে জানাতে ভূলবেন না অবশ্যই। আপনাদের সু চিন্তিত মতামতই আমাদের লিখার অনুপ্রেরণা। সকলেই ভাল থাকবেন, দেখা হবে পরবর্তী আর্টিকেলে। সেই পর্যন্ত সবার জন্য শুভো কামনা.......!







আমার গ্রন্থাগারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url