Banner Add

কবিতা: মহা ইঙ্গিত । । কবি বীরেন্দ্র চট্টপাধ্যায়

 

 মহা ইঙ্গিত

কবি বীরেন্দ্র চট্টপাধ্যায় 

 

 

এই অপূর্ণ স্বাধীনতা, আজ অর্থহীন

নিপিড়িত জনতার কাছে এ এক নিদারুন উপহাস

লক্ষ লক্ষ বেকারের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

অভুক্ত জনতার খুধিত কন্ঠের হাহাকারে কম্পিত যেদেশের আকাশ বাতাস

বিচারের জন্য ডুকরে কাঁদে যেথায় বুটের তলে পৃষ্ট অপমানিত মানবতা

অত্যাচারের পৌচাশিকতায় সত্য কন্ঠ যেথায় ভূ-লুন্ঠিত

অন্ধেরা যদি বলে এরই নাম স্বাধীনতা, আমি স্বীকার করিনা।

স্বাধীনতা তুমি জবাব দাও-

আজও কেনো ফাঁসির মঞ্চে জীবন দেয় শত শত খুদিরাম, সূর্যসেনের দল?

আমারা অধিকার চেয়েও আজও কেনো রক্তে রঙ্গিন হয় রাজপথ?

আজও কেনো সত্য কন্ঠ আর্তনাদ করে ফেরে কারাগারের অন্তরালে?

আমার ক্ষুধার অন্ন, মাথাগোঁজার ঠাঁই, পিড়ায় ঔষধ, অঙ্গঢাকার বস্ত্র

মানবিক জ্ঞান বিকাশে আমার শিক্ষার নিশ্চয়তা কোথায়?

মেনিবাজারে আশ্চর্যত লাইটের আলোক ঝলকানো ধনীর দুলাল দুলালীদের অঙ্গে

চোখ ঝলসানো পোশাক দেখে যদি কেউ বলে আমার অভাবহীন স্বাধীনতা আজ পূর্ণ।

আমি থু থু দেই তাদের চোখে।

সীমাহীন অর্থনৈতিক বৈষম্যতা, মানবতাবিরোধী রাজনৈতিক নিষ্পেশন, স্তুপিকৃত সামাজিক অবিচার আর অপসংস্কৃতির উলঙ্গ দৌরত্ব,

যা আমার স্বাধীনতাকে করেছে ব্যাঙ্গ।

এটাইতো আমার কবির কবিতার উৎস

আমার এই কবি কষ্টকে তো তোমরাই জন্ম দিয়েছো।

সত্য বলা যদি অপরাধ হয়ে থাকে,

তবে ভেঙ্গে ফেলো বিশ্বের সমস্ত বিদ্যালয়গুলো,

পুড়িয়ে দাও পৃথিবীর সমস্ত লাইব্রেরী

যত শিক্ষক আছে ঝুলাও ফাঁসির কাষ্টে।

বন্ধ করে দাও শিক্ষার দার।

প্রবঞ্চকেরা কেনো? রাজনীতির নামে যারা করে বেশ্যাবৃত্তি

আমার এই ভাষার ভাষকর্যে যদি আঘাত হানো

বিষ্ফোরণ ঘটবে।

শব্দের অগ্নীকন্যাগুলো ছড়িয়ে পড়বে বিপ্লবের হোমশিখা হয়ে।

ইতিহাসের মানষপুত্র, সংগ্রামীরা, বিদ্রোহীরা, বিপ্লবীরা প্রস্তুত হও।

মহাবিশ্বে আজ ঘন্টাধ্বনী বাজে বিশ্বমায়া

ভাংতে হবে এই ঘুনে ধরা সমাজকে

পৃথিবীকে সাজাতে হবে এর রূপে।

সাম্যতা হবে সমাজের ভিত্তি

স্বাধীনতাকে করতে হবে পূর্ণতর।

আজকের এই রক্তিম আকাশে লাল আভা ছড়িয়ে

তারই মহা ইঙ্গিত।


 

Ph?n ?ng:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Bottom Banner Add