বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন (Benjamin Franklin)
বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন (১৭০৬-১৭৮২)
একদা বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন তাঁর স্ত্রীকে বলেছিলেন, - ডার্লিং ডেবি, আমার ইচ্ছে হচ্ছে মহান প্রভু যিশু যদি প্রতিটি দিনকে বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ বড়ো করে দিতেন। সম্ভবতঃ তাহলেই আমি সত্যিকারভাবে কিছু অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে যেতে পারতাম।
সত্যিকারভাবে কি কিছু সমাধা করে যেতে পারতেন? কিন্তু বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন তো বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনে বহু কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। বিজ্ঞানে, আবিষ্কারে, সাহিত্যে, শিক্ষায়, প্রকাশনায়, সমাজ সেবায় এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাঁর অবদান বিরাট। দিনটি যদি দ্বিগুণ, অথবা এমনকি তিন গুণও অধিক বৃদ্ধি পেতো, তাহলে তিনি আর এমন কিই বা করতে পারতেন? - না তিনি প্রভু যিশুর থেকে ২৪ ঘন্টায় ১ দিন হিসাবের ১ মিনিট বেশী সময় পাননি, তবুও বিশ্বকে দিয়ে গেছেন অনেক বেশি।
১৭০৬ সালের জানুয়ারীতে ফ্রাঙ্কলিন বেঞ্জ ‘ম্যাসচুস্টেস কালোনী’ বস্টনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আরো ১৪ জন বড় ভাইবোন ছিলো। মৃতদের নিয়ে ভাইবোনের সংখ্যা ছিলো ১৭ জন। তাঁর পিতা বাতি তৈরি কাজ করতেন। কাজটা গুরুত্বপূর্ণ হলেও পেশাটা অর্থকারীভাবে মোটেই লাভজনক ছিলো না।
বেঞ্জামিন নিজে-নিজেই পড়তে শেখেন। ৮ বছর বয়সে তাঁকে স্কুলে ভর্তি করা হয়। দু’বছর পর তাঁর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সেকালে ইস্কুলগুলো অবৈতনিক ছিলো না। বেঞ্জের পিতা ইস্কুলের খরচ চালাতে অসমর্থ হয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাঁকে নিজ বাতি তৈরির দোকানে কাজে লাগিয়ে দেন। বেঞ্জ দোকানে চঞ্চল ও অস্থির হয়ে পড়েন। বস্টন পোতাশ্রয়ে তিনি প্রতিদিন ঘোরাফেরা করতে থাকেন এবং সমুদ্রযাত্রার খোঁজ-খবর নিতে থাকেন। এতে পিতা ফ্রাঙ্কলিন হুঁশিয়ার হয়ে যান েএবং বেঞ্জকে মুদ্রাকরের কাজ শেখানোর জন্য পুত্র জেমনকে নির্দেশ দেন। ভ্রাতা জেমস ‘দি নিউ ইংল্যান্ড কোর্যান্ট’ নামে একটা ইংরেজী সাপ্তাহিক সংবাদপত্র প্রকাশ করেতন। ১২ বছরের বেঞ্জ এই কাজের মধ্যে সাময়িকভাবে আনন্দ লাভ করেন। তিনি হরফ সাজানো এবং মুদ্রণ যন্ত্র চালনা শিক্ষা লাভ করেন।
কোন কিছু শিক্ষালাভের জন্য ফ্রাঙ্কলিন গভীরভাবে আগ্রহী ছিলেন। আশেপাশে যতো বই তিনি পেতেন তাই তিনি পড়ে ফেলেতেন, প্রায়ই - না খেয়ে পয়সা জমিয়ে বই কিনতেন। এই প্রতিভাবান বালক নিজে-নিজেই অঙ্ক, জ্যামিতি, বীজগণিত, ব্যকরণ িএবং নৌ-চালনা শিক্ষা লাভ করেন। তিনি লেখার ক্ষমতাও ভালভাবে আয়ত্ব করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর আত্মজীবনী প্রকাশিত হয়। তাঁর আত্মজীবনী মার্কিন সাহত্যের এক অন্যতম ক্লাসিক প্রকাশনা বলে আদৃত।
‘দি নিউ ইংল্যান্ড কোর্যান্টে’ নিজের লেখা ছাপার জন্য তিনি সংকল্প গ্রহণ করেন। কিন্তু ভাই তাঁকে বেশী গুরুত্ব দিতেন না। তাই তিনি ‘মিসেস সাইলেন্স ডগউড’ এই ছদ্মনাম গ্রহণ করেন। জেমসের নিকট মিসেস সাইলেন্স পরিচয় উদঘাটিত হয়ে যাওয়ার পর তার মেজাজ বিগড়ে যায় এবং তিনি ভাইয়ের জীবনকে অতিষ্ট করে তোলেন। তাই ফ্রাঙ্কলিন নিজেই - নিজের পথ করে নেওয়ার জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হলেন। অতঃপর ১৮ বছর বয়সে রাগ করে তিনি ‘ফিলাডেলফিয়া’ অঙ্গরাজ্যে চলে যান।
ফিলাডেলফিয়ায় মুদ্রাকররূপে তাঁর প্রতিভা দ্রুত পরিচিতি লাভ করে এবং তার চাহিদা বেড়ে যায়। তিনি নিজেই ছাপাখানা প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী হন। সে সময় আমেরিকার উপনিবেশগুলোতে ছাপাখানার যন্ত্রপাতি তৈরি হতো না, ইংল্যান্ড হতে আমদানী করতে হতো। পেনসিলভ্যানিয়ার ঔপনিবেশিক গভর্ণর স্যার ইউলিয়াম কীথের থেকে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রতিশ্রুতি পেয়ে ফ্রাঙ্কলিন ছাপাখানার যন্ত্রপাতি ক্রয় করার উদ্দেশ্যে সমুদ্রপতে একদিন ইংল্যান্ড রওয়ানা হন।
অবশ্য যে কারণেই হোক প্রতিশ্রুতির অর্থ পাওয়া গেল না। নিজ ব্যবসায়িক উদ্যেগের জন্যে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ফ্রাঙ্কলিন দেড় বছর ইংল্যান্ডে বিভিন্ন কাজ করেন। এদিকে স্বদেশে ফিলাডেলফিয়ায় তাঁর কোন েখবর বার্তা না পেয়ে তাঁর প্রেমিকা, ডেবিরী রীড অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। অবশ্য কয়েক বছর পরে স্বামী নিরুদ্দেশ হয়ে গেলে বেঞ্জামিন ও ডেবিরী নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের ঔরসে তিনটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে।
ফিলাডেলফিয়ায় ফিরে এসে তিনি, ‘পেনসিলভ্যানিয়া গেজেট’ প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি বার্ষিক ‘পুয়র রিচার্ডস অ্যালম্যাক’ প্রকাশ করতে থাকেন। অ্যালম্যাকটা ছিলো একটা পঞ্জিকা। এতে সূর্যোদয়, চাঁদের বিভিন্ন পর্যায়ক্রম, দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়া পূর্বাভাস, ধর্মীয় পবিত্র দিনসমূহের নির্ঘন্ট - রাষ্ট্রিয় উত্থান-পতন প্রভৃতি তথ্যও দেওয়া হতো। এবং ঐ পঞ্জিকায় সততা, শিল্প, মিতব্যায়িতা, সাহিত্য এবং দেশপ্রেম সম্পর্কে অনেক সংক্ষিপ্ত উপদেশবাণী স্থান পেতো। এর কয়েকটি আজকের দিনেও বহুল প্রচলিত। এখানে তা থেকে কয়েকটি নমুনা দেওয়া হল।
➤ ঈশ্বর তাদেরেই সাহায্য করেন, যারা নিজেরা নিজেদের সাহায্য করে।
➤ সকাল সকাল শয্যাগ্রহণ এবং সকাল সকাল শয্যাত্যাগ মানুষকে স্বাস্থবান, বিত্তশালী ও জ্ঞানবান করে।
➤ আজকেই যা করতে পার, আগামী দিনের জন্য তা রেখে দিও না।
➤ রাতে এক ঘন্টা অধ্যায়ন সমস্তরাত প্রার্থনার চাইতে উত্তম।
তিনি ৪২ বছর বয়সে প্রচুর অর্থ সঞ্চয় করেন। যার ফলে তিনি ব্যবসার থেকে অবসর গ্রহণে এবং সম্পূর্নরূপে জনসেবায় ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আত্মনিয়োগে সমর্থ হন। অবশ্য ছাপাখানার ব্যবসায়ে থাকাকালেই তিনি এসব তৎপরতার সাথে লিপ্ত ছিলেন।
মাত্র ২১ বছর বয়সে ফিলাডেলফিয়ার তরুণ যন্ত্রবিদ ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে তিনি একটা আলোচনাচক্র গঠন করেন। এই চক্র ফিলাডেলফিয়ার বাইরেও সম্প্রসারিত হয়। এই চক্রই পরবর্তী সময়ে, ‘আমেরিকান ফিলোসোফিক্যাল সোসাইটিতে’ পরিণত হয়। এই সোসাইটিতে তৎকালীন উপনিবেশ সমূহের সেরা জ্ঞাণীগুণী সৃজনশীল কর্মের অধিকারী ব্যক্তিদের সমাবেশ ঘটেছিলো। তাঁরা গোপন যোগাযোগের বিভিন্ন কমিটি সংগঠন করেন। এই গোপন সংস্থাগুলোই স্বাধীনতার ঘোষণা ও অমেরিকান বিপ্লবের প্রেরণা সৃষ্টির ঘাটি পত্তন করে। এখনো ফিলাডেলফিয়ার সোসাইটির ভবনটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ১৭৫৩ সালে উপনিশেসমূহের “পোষ্টমাস্টার জেনারেল” - এর পদে চাকুরী লাভ করেন। নতুন কাজেও তিনি তাঁর স্বাভাবিক শক্তি ও সামর্থ্যের পরিচয় দেন। বিভিন্ন উপনিবেশের মধ্যে ডাক সার্ভিসকে তিনি ব্যাপকভাবে উন্নত করেন এবং ডাক বিভাগকে লাভজনক পর্যায়ে উন্নীত করেন। ১৮৪৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ডাক টিকেট ছাপা হলে , তাতে বেঞ্জামিন ফ্রঙ্কলিন এর ছবি শোভা পায়; মার্কিন মুল্লুকের ডাক বিভাগের উন্নয়নে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এটা করা হয়।
২৫ বছর বয়সে ফ্রাঙ্কলিন আমেরিকার প্রথম ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেন। কিশোর বয়সের কথা তাঁর মনে ছিলো, যখন তাঁকে না খেয়ে বই কিনতে হতো। তিনি ফিলাডেলফিয়ায় অগ্নি নির্বাপন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, এবং আমেরিকার প্রথম “অগ্নি-বীমা কোম্পানী” প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন। ‘পেনসিলভ্যানিয়া একাডেমী’ প্রতিষ্ঠায়ও তিনি সাহায্য করেন। এই একাডেমী পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। ফিলাডেলফিয়ার নেতৃস্থানীয় নগরীর মর্যাদা লাভের পিছনে এই মহান ব্যক্তিত্বের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। আজ তিনি বিজ্ঞান জগতের এক প্রাতঃস্বরণীয় মহান নাম।
ফ্রাঙ্কলিন ৩৮ বছর বয়সে বৈজ্ঞানিক গবেষণা শুরু করেন। ব্যবসায় এবং সরকারী পদে ইতিমধ্যেই তিনি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। ‘তড়িৎ স্থিতিশীলতা’ সম্পর্কে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা চালান।
ঝড় ও বজ্রপাতের মধ্যে ঘুড়ি ওড়ানোর কাহিনী সবাই শুনেছেন। এই ঘুড়ি ওড়ানোর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, - বজ্রবিদ্যুৎ ছাড়া অভিন্ন কিছুই নয়। আমরিকাতে প্রচলিত হাহিনীর মধ্যে েএই কাহিনী সর্বাধিক জনপ্রীয় এবং সেখানে প্রচলিত অন্যান্য প্রবাদ কাহিনীর মতো অলীক নয়, এ কাহিনী সত্যি। তদানীন্তন সময়ের সায়েন্টিফিক জার্নালে তিনি এই কাহিনী প্রকাশ করেন এবং বিশ্বব্যাপী বহু বৈজ্ঞানীক তাঁর পরীক্ষা বিধি-বিধান পুনঃরায় পরীক্ষা করে দেখেন, ঘটনাটি সত্য।
বেঞ্জামিন ‘তড়িৎ স্থিতিশীলতার তত্ত্ব’ মূলতঃ সহজ এবং অদ্যাবধি আমাদের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। তিনি বলেন, - “সকল বস্তুই, ‘সাধারণ পদার্থ’ এবং ‘বৈদ্যুুতিক পদার্থ’ অথবা ‘বৈদ্যুতিক তরল’ উপাদানে গঠিত। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যেক বস্তুর মধ্যেই নির্দিষ্ট পরিমাণে তরল বিদ্যুৎ অবস্থান করে।” তিনি আরো বলেন, - “বস্তু কিছুটা তরল বিদ্যুৎ গ্রহণ বা বর্জন করলে বস্তু বিদ্যুতায়িত বা সঞ্চারিত হয়। বস্তু যদি তরল বিদ্যুৎ গ্রহণ করে তাহলে এতে ধণাত্বক বিদ্যুৎ সঞ্চারিত হয়। অপরদিকে বস্তু যদি তরল বিদ্যুৎ বর্জন করে তাহলে তাতেও বিদ্যুৎ সঞ্চারিত হয়।”
আজকাল আমরা জানি যে, সকল বস্তুই ‘ইলেকট্রন’ ও ‘প্রোটন’ দ্বারা বিন্যাস্ত এবং বিদ্যুৎ সঞ্চারিত হয়নি এমন বস্তুতে ইলেকট্রন ও প্রোটন সমসংখ্যায় অবস্থান করে। এই আধুনিক ধারণাও ফ্রাঙ্কলিনের তত্ত্বের অনুরূপ।
বেঞ্জামিন তার তত্ত্বের সমর্থনে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। যখন এক খন্ড কাঁচকে রেশমী কাপড় দ্বারা ঘর্ষণ করা হয়, তখন কাঁচে ‘ধণাত্বক’ এবং কাপড়ে ‘ঋণাত্বক’ তড়িৎ সঞ্চারিত হয়। অনেক বিজ্ঞানী মনে করতেন যে, -“ঘর্ষণের ফলে বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয়।’ কিন্তু ফ্রাঙ্কলিন জোর দিয়ে বলেন. - “না, এতে বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয় না, বরং রেশমী কাপড় থেকে তরল বিদ্যুৎ কাঁচের মধ্যে প্রবাহিত হয়।” ফ্রাঙ্কলিন এর ধারণাই সঠিক ছিলো।
বেঞ্জামিন তার তরল বিদ্যুৎ তত্ত্ব এর নাটকীয় প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। তিনি দু’জন লোককে টুলের উপর দাঁড় করান। কাঁচের সাহায্যে তাদের ভূমি থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছিলো। একজনকে ‘ধণাত্বক বিদ্যুৎ’ দ্বারা চার্জ করা হল, অর্থাৎ তার মধ্যে ‘তরল বিদ্যুৎ’ বেশি হল। অপরজনকে ‘ঋণাত্বক বিদ্যুৎ’ দ্বারা চার্জ করা হলো, অর্থাৎ তার মধ্যে ‘তরল বিদ্যুুতের’ পরিমাণ হ্রাস পেলো। যখন তারা পরস্পরকে স্পর্শ করলো তখন তাদের মধ্যে চার্জ হয়ে গেল এবং উভয়েই ধাক্কা খেলো। কারণ একজনের অতিরিক্ত ‘তরল বিদ্যুৎ’ ঘাটতি দূর করার জন্য অন্যজনের মধ্যে তা প্রবাহিত হয়। বিদ্যুৎ সঞ্চারিত বা চার্জ হয়নি, এমন তৃতীয় ব্যক্তিও যদি যেকোন একজনকে স্পর্শ করে, তবে সেও ধাক্কা খাবে। কারণ, ‘ঋণাত্বক’ চার্জ করা ব্যক্তির তুলনায় তার মধ্যে অধিক এবং ‘ধনাত্বক’ চার্জ করা ব্যক্তির তুলনায় কম ‘তরল বিদ্যুৎ’ রয়েছে।
ফ্রঙ্কলিন বিদ্যুৎ সম্পর্কে গবেষণার ফলে বজ্রদন্ড আবিষ্কার করেন। তিনি আবিষ্কার করেন যে, - বিদ্যুতায়িত বস্তুর নিকট সূক্ষ্ম অগ্রভাগ যুক্ত দন্ড থাকলে, দন্ড বস্তু থেকে বিদ্যুৎ টেনে নেয়। তিনি জানতেন যে, মেঘের মধ্যেও বিদ্যুৎ রয়েছে। তাই তিনি দালানের সর্বোচ্চ স্থানে সূক্ষ্ম অগ্রভাগ যুক্ত লৌহদন্ড স্থাপনের সুপারিশ করেন এবং একটি তার লৌহদন্ড থেকে মাটির তলায় নিয়ে যেতে বলেন। এর ফলে বজ্রপাত থেকে ইমারত রক্ষা পাবে। এই পদ্ধতি আমাদের দেশেও বাধ্যতামূলক। লৌহদন্ড মেঘ থেকে ধীরে ধীরে বজ্রের বিদ্যুৎ টেনে নেবে, - ফলে আকস্মিকভাবে প্রচন্ড আকারে বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকবে না। আজকাল পৃথিবীর সর্বত্র এটা প্রচলিত।
বেঞ্জামিন ‘লেডেনপাত্র’ (Layden Jar) সম্পর্কেও গবেষণা করেন। সে সময় বৈদ্যুতিক চার্জ সংগ্রাহকরূপে সার্বজনীনভাবে লেডেনপাত্রের ব্যবহার করা হত। লেডেনপাত্র আসলে সাধারণ কাঁচপাত্র। তবে এটা উপরিভাগে ধাতব আচ্ছাদনযুক্ত। পাত্রের ভিতর পানি দিয়ে ভর্তি থাকে। লেডেনপাত্রের ক্রিয়া বিশ্লেষণ করে ফ্রাঙ্কলিন বিজ্ঞান জগৎকে আশ্চর্য করে দেন। তিনি লেডেনপাত্র থেকে পানি ফেলে দিয়ে তাতে নতুন পানি ঢেলে দেন। লেডেনপাত্র তখনও বিদ্যুৎ চার্জ করা ছিলো। এভাবে তিনি প্রমাণ করেন যে, - “পানি নয় কাঁচই বিদ্যুতের উৎস।” কিন্তু এককালে ধারণা ছিলো, - “পানিটাই বিদ্যুতের উৎস।” এই সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে তিনি সমান্তরাল ‘ক্যাপাসিটর’ পাত উদ্ভাবন করেন, যা আজকের দিনের রেডিও টেলিভিশনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তাঁর এক্সপেরিমেন্টস এন্ড অবজারভেশন অন ইলেকট্রিসিটি মেই অব্যাট ফিলোডেলফিয়া ইন আমেরিকা গ্রন্থটি গভীর পান্ডিত্যপূর্ণ। এই গ্রন্থে বিদ্যুৎ সম্পর্কে তাঁর আবিষ্কৃত নীতিসমূহ বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পৃথিবীর সর্বত্র এই গ্রন্থ প্রচার ও প্রকাশিত হয়েছে এবং জার্মান, ফরাসী, ইতালীয় ভাষায় এর অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে গ্রন্থটি প্রকাশের সাথে সাথেই।
বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীর তাঁর গ্রন্থকে স্যার আইজ্যাক নিউটনের ‘প্রিন্সিপিয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সে সময় একটি সাময়িকীতে মন্তব্য করা হয়, - “ডঃফ্রাঙ্কলিনে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ‘প্রিন্সিপিয়া’ সৃষ্টি করেছে েএবং অনুরূপ সমান সহজ ও নিগৃঢ় পদ্ধতির ভিত্তি গঠন করেছে।”
ফ্রাঙ্কলিন তাঁর কর্মের জন্যে বৈজ্ঞানিক সর্ববিধ মর্যাদায় সম্মানিত করা হয়। ফ্রাঙ্কলিন লন্ডনের ‘রয়্যাল সোসাইটির’ এবং প্যারিসের ‘রয়্যাল একাডেমীর’ সদস্য নির্বাচিত হন। বিদ্যুতের ‘একক-তরল’ তত্ত্ব তারই অবদান। আজকের দিনে আমরা বলি যে, - বিদ্যুৎপ্রবাহ আসলে প্রবাহমান, ইলেকট্রন এর সমষ্টি - কিন্তু সত্যিটা হলো, ‘এখনো একক তরল’ তত্ত্বই কার্যকরী।
যাবতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ, পত্র-পত্রিকা প্রকাশনায় কাজ করেও তিনি জনকল্যাণের জন্য সময় ব্যয় করতেন। আমরিকান বিপ্লব চলাকালে মাহদেশীয় কংগ্রেস টমাস জেফারসন, জন অ্যাডামস এবং বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনকে নিয়ে গঠিত কমিটির উপর স্বাধীতনার ঘোষণাপত্রের খসড়া তৈরির মহান দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন আমেরিকার সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন কৃতীপুরুষ। অপরদিকে তাঁর বিদ্যুৎ সম্পর্কিত তত্ত্ব তাঁকে বিশ্ব বিজ্ঞান ভূবনের দিকপালের আসনে সমাসীন করেছে সম্মানের সাথে।
২৫ বছর বয়সে ফ্রাঙ্কলিন আমেরিকার প্রথম ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেন। কিশোর বয়সের কথা তাঁর মনে ছিলো, যখন তাঁকে না খেয়ে বই কিনতে হতো। তিনি ফিলাডেলফিয়ায় অগ্নি নির্বাপন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, এবং আমেরিকার প্রথম “অগ্নি-বীমা কোম্পানী” প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন। ‘পেনসিলভ্যানিয়া একাডেমী’ প্রতিষ্ঠায়ও তিনি সাহায্য করেন। এই একাডেমী পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। ফিলাডেলফিয়ার নেতৃস্থানীয় নগরীর মর্যাদা লাভের পিছনে এই মহান ব্যক্তিত্বের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। আজ তিনি বিজ্ঞান জগতের এক প্রাতঃস্বরণীয় মহান নাম।
ফ্রাঙ্কলিন ৩৮ বছর বয়সে বৈজ্ঞানিক গবেষণা শুরু করেন। ব্যবসায় এবং সরকারী পদে ইতিমধ্যেই তিনি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। ‘তড়িৎ স্থিতিশীলতা’ সম্পর্কে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা চালান।
ঝড় ও বজ্রপাতের মধ্যে ঘুড়ি ওড়ানোর কাহিনী সবাই শুনেছেন। এই ঘুড়ি ওড়ানোর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, - বজ্রবিদ্যুৎ ছাড়া অভিন্ন কিছুই নয়। আমরিকাতে প্রচলিত হাহিনীর মধ্যে েএই কাহিনী সর্বাধিক জনপ্রীয় এবং সেখানে প্রচলিত অন্যান্য প্রবাদ কাহিনীর মতো অলীক নয়, এ কাহিনী সত্যি। তদানীন্তন সময়ের সায়েন্টিফিক জার্নালে তিনি এই কাহিনী প্রকাশ করেন এবং বিশ্বব্যাপী বহু বৈজ্ঞানীক তাঁর পরীক্ষা বিধি-বিধান পুনঃরায় পরীক্ষা করে দেখেন, ঘটনাটি সত্য।
বেঞ্জামিন ‘তড়িৎ স্থিতিশীলতার তত্ত্ব’ মূলতঃ সহজ এবং অদ্যাবধি আমাদের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। তিনি বলেন, - “সকল বস্তুই, ‘সাধারণ পদার্থ’ এবং ‘বৈদ্যুুতিক পদার্থ’ অথবা ‘বৈদ্যুতিক তরল’ উপাদানে গঠিত। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যেক বস্তুর মধ্যেই নির্দিষ্ট পরিমাণে তরল বিদ্যুৎ অবস্থান করে।” তিনি আরো বলেন, - “বস্তু কিছুটা তরল বিদ্যুৎ গ্রহণ বা বর্জন করলে বস্তু বিদ্যুতায়িত বা সঞ্চারিত হয়। বস্তু যদি তরল বিদ্যুৎ গ্রহণ করে তাহলে এতে ধণাত্বক বিদ্যুৎ সঞ্চারিত হয়। অপরদিকে বস্তু যদি তরল বিদ্যুৎ বর্জন করে তাহলে তাতেও বিদ্যুৎ সঞ্চারিত হয়।”
আজকাল আমরা জানি যে, সকল বস্তুই ‘ইলেকট্রন’ ও ‘প্রোটন’ দ্বারা বিন্যাস্ত এবং বিদ্যুৎ সঞ্চারিত হয়নি এমন বস্তুতে ইলেকট্রন ও প্রোটন সমসংখ্যায় অবস্থান করে। এই আধুনিক ধারণাও ফ্রাঙ্কলিনের তত্ত্বের অনুরূপ।
বেঞ্জামিন তার তত্ত্বের সমর্থনে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। যখন এক খন্ড কাঁচকে রেশমী কাপড় দ্বারা ঘর্ষণ করা হয়, তখন কাঁচে ‘ধণাত্বক’ এবং কাপড়ে ‘ঋণাত্বক’ তড়িৎ সঞ্চারিত হয়। অনেক বিজ্ঞানী মনে করতেন যে, -“ঘর্ষণের ফলে বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয়।’ কিন্তু ফ্রাঙ্কলিন জোর দিয়ে বলেন. - “না, এতে বিদ্যুৎ সৃষ্টি হয় না, বরং রেশমী কাপড় থেকে তরল বিদ্যুৎ কাঁচের মধ্যে প্রবাহিত হয়।” ফ্রাঙ্কলিন এর ধারণাই সঠিক ছিলো।
বেঞ্জামিন তার তরল বিদ্যুৎ তত্ত্ব এর নাটকীয় প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। তিনি দু’জন লোককে টুলের উপর দাঁড় করান। কাঁচের সাহায্যে তাদের ভূমি থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছিলো। একজনকে ‘ধণাত্বক বিদ্যুৎ’ দ্বারা চার্জ করা হল, অর্থাৎ তার মধ্যে ‘তরল বিদ্যুৎ’ বেশি হল। অপরজনকে ‘ঋণাত্বক বিদ্যুৎ’ দ্বারা চার্জ করা হলো, অর্থাৎ তার মধ্যে ‘তরল বিদ্যুুতের’ পরিমাণ হ্রাস পেলো। যখন তারা পরস্পরকে স্পর্শ করলো তখন তাদের মধ্যে চার্জ হয়ে গেল এবং উভয়েই ধাক্কা খেলো। কারণ একজনের অতিরিক্ত ‘তরল বিদ্যুৎ’ ঘাটতি দূর করার জন্য অন্যজনের মধ্যে তা প্রবাহিত হয়। বিদ্যুৎ সঞ্চারিত বা চার্জ হয়নি, এমন তৃতীয় ব্যক্তিও যদি যেকোন একজনকে স্পর্শ করে, তবে সেও ধাক্কা খাবে। কারণ, ‘ঋণাত্বক’ চার্জ করা ব্যক্তির তুলনায় তার মধ্যে অধিক এবং ‘ধনাত্বক’ চার্জ করা ব্যক্তির তুলনায় কম ‘তরল বিদ্যুৎ’ রয়েছে।
ফ্রঙ্কলিন বিদ্যুৎ সম্পর্কে গবেষণার ফলে বজ্রদন্ড আবিষ্কার করেন। তিনি আবিষ্কার করেন যে, - বিদ্যুতায়িত বস্তুর নিকট সূক্ষ্ম অগ্রভাগ যুক্ত দন্ড থাকলে, দন্ড বস্তু থেকে বিদ্যুৎ টেনে নেয়। তিনি জানতেন যে, মেঘের মধ্যেও বিদ্যুৎ রয়েছে। তাই তিনি দালানের সর্বোচ্চ স্থানে সূক্ষ্ম অগ্রভাগ যুক্ত লৌহদন্ড স্থাপনের সুপারিশ করেন এবং একটি তার লৌহদন্ড থেকে মাটির তলায় নিয়ে যেতে বলেন। এর ফলে বজ্রপাত থেকে ইমারত রক্ষা পাবে। এই পদ্ধতি আমাদের দেশেও বাধ্যতামূলক। লৌহদন্ড মেঘ থেকে ধীরে ধীরে বজ্রের বিদ্যুৎ টেনে নেবে, - ফলে আকস্মিকভাবে প্রচন্ড আকারে বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকবে না। আজকাল পৃথিবীর সর্বত্র এটা প্রচলিত।
বেঞ্জামিন ‘লেডেনপাত্র’ (Layden Jar) সম্পর্কেও গবেষণা করেন। সে সময় বৈদ্যুতিক চার্জ সংগ্রাহকরূপে সার্বজনীনভাবে লেডেনপাত্রের ব্যবহার করা হত। লেডেনপাত্র আসলে সাধারণ কাঁচপাত্র। তবে এটা উপরিভাগে ধাতব আচ্ছাদনযুক্ত। পাত্রের ভিতর পানি দিয়ে ভর্তি থাকে। লেডেনপাত্রের ক্রিয়া বিশ্লেষণ করে ফ্রাঙ্কলিন বিজ্ঞান জগৎকে আশ্চর্য করে দেন। তিনি লেডেনপাত্র থেকে পানি ফেলে দিয়ে তাতে নতুন পানি ঢেলে দেন। লেডেনপাত্র তখনও বিদ্যুৎ চার্জ করা ছিলো। এভাবে তিনি প্রমাণ করেন যে, - “পানি নয় কাঁচই বিদ্যুতের উৎস।” কিন্তু এককালে ধারণা ছিলো, - “পানিটাই বিদ্যুতের উৎস।” এই সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে তিনি সমান্তরাল ‘ক্যাপাসিটর’ পাত উদ্ভাবন করেন, যা আজকের দিনের রেডিও টেলিভিশনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তাঁর এক্সপেরিমেন্টস এন্ড অবজারভেশন অন ইলেকট্রিসিটি মেই অব্যাট ফিলোডেলফিয়া ইন আমেরিকা গ্রন্থটি গভীর পান্ডিত্যপূর্ণ। এই গ্রন্থে বিদ্যুৎ সম্পর্কে তাঁর আবিষ্কৃত নীতিসমূহ বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পৃথিবীর সর্বত্র এই গ্রন্থ প্রচার ও প্রকাশিত হয়েছে এবং জার্মান, ফরাসী, ইতালীয় ভাষায় এর অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে গ্রন্থটি প্রকাশের সাথে সাথেই।
বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীর তাঁর গ্রন্থকে স্যার আইজ্যাক নিউটনের ‘প্রিন্সিপিয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সে সময় একটি সাময়িকীতে মন্তব্য করা হয়, - “ডঃফ্রাঙ্কলিনে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ‘প্রিন্সিপিয়া’ সৃষ্টি করেছে েএবং অনুরূপ সমান সহজ ও নিগৃঢ় পদ্ধতির ভিত্তি গঠন করেছে।”
ফ্রাঙ্কলিন তাঁর কর্মের জন্যে বৈজ্ঞানিক সর্ববিধ মর্যাদায় সম্মানিত করা হয়। ফ্রাঙ্কলিন লন্ডনের ‘রয়্যাল সোসাইটির’ এবং প্যারিসের ‘রয়্যাল একাডেমীর’ সদস্য নির্বাচিত হন। বিদ্যুতের ‘একক-তরল’ তত্ত্ব তারই অবদান। আজকের দিনে আমরা বলি যে, - বিদ্যুৎপ্রবাহ আসলে প্রবাহমান, ইলেকট্রন এর সমষ্টি - কিন্তু সত্যিটা হলো, ‘এখনো একক তরল’ তত্ত্বই কার্যকরী।
যাবতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ, পত্র-পত্রিকা প্রকাশনায় কাজ করেও তিনি জনকল্যাণের জন্য সময় ব্যয় করতেন। আমরিকান বিপ্লব চলাকালে মাহদেশীয় কংগ্রেস টমাস জেফারসন, জন অ্যাডামস এবং বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনকে নিয়ে গঠিত কমিটির উপর স্বাধীতনার ঘোষণাপত্রের খসড়া তৈরির মহান দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন আমেরিকার সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন কৃতীপুরুষ। অপরদিকে তাঁর বিদ্যুৎ সম্পর্কিত তত্ত্ব তাঁকে বিশ্ব বিজ্ঞান ভূবনের দিকপালের আসনে সমাসীন করেছে সম্মানের সাথে।

আমার গ্রন্থাগারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url